জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে নাগরিক হিসেবে আমাদের করণীয়

জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে নাগরিক হিসেবে আমাদের করণীয় What we as citizens should do to solve the population problem

জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে নাগরিক হিসেবে আমাদের করণীয় What we as citizens should do to solve the population problem, তুলি নিউজ ২৪, tuli news 24, rtuli24

জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে নাগরিক হিসেবে আমাদের করণীয়:


বাংলাদেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি। সচেতন নাগরিক হিসেবে জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা সকলের নাগরিক দায়িত্ব। প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কুফল সম্পর্কে নাগরিক হিসেবে আমরা নিজেরা সচেতন হতে পারি এবং অন্যকেও সচেতন করতে পারি । দ্বিতীয়ত, আমাদের বা প্রতিবেশী পরিবারে কোনো নিরক্ষর শিশু বা ব্যক্তি থাকলে তাদেরকে আমরা শিক্ষার সুযোগ দিয়ে উৎসাহিত করতে পারি, যাতে সে জনসম্পদ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। সম্পদের তুলনায় অধিক জনসংখ্যা যেমন একটি পরিবারের জন্য অভিশাপ, তেমনি তা জাতির জন্যও বোঝা। অন্যদিকে, জনসংখ্যা যে পরিমাণে আছে তাদেরকে যথার্থ শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করতে পারলে তা জাতির জন্য সম্পদে পরিণত হবে ।


২. নিরক্ষরতা বাংলাদেশের একটি অন্যতম নাগরিক সমস্যা। লেখাপড়া না জানার কারণে নিরক্ষর ব্যক্তি রাষ্ট্র ও সমাজের উপকারে আসেনা বরং সমাজের বোঝা স্বরূপ। বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকই গ্রামে বাস করে। নিরক্ষর বলতে সেই ব্যক্তিকে বুঝায়, যার কোনো অক্ষর জ্ঞান নেই, এমনকি যিনি তার নাম পর্যন্ত লিখতে পারেন না। আমাদের দেশে গ্রামের বহু লোকই নিরক্ষর। শহরাঞ্চলেও অনেক নিরক্ষর লোক আছে। সরকারের প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯৯৭ সালে 'সম্পূর্ণ সাক্ষরতা আন্দোলন' (Total Literacy Movement) শুরু করে। সম্পূর্ণ সাক্ষরতা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে নিরক্ষরতার হার খুবই বেশি। এর মূল কারণ তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা। দরিদ্র শ্রেণির সন্তানেরা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও লেখাপড়া করতে পারে না। অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী টাকার অভাবে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। এর মধ্যেও অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি, বেসরকারি ব্যাংক এবং সংস্থা অর্থ সাহায্য দিয়ে দরিদ্র অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে অবদান রাখছে।


নিরক্ষরতা দূরীকরণ : সরকার ও নাগরিকের করণীয় নিরক্ষরতা জাতীয় সমস্যা। একে মোকাবিলা করা সবার দায়িত্ব। নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সরকার ও নাগরিকের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ । দেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নিরক্ষর। এই বিশাল নিরক্ষর জনসমষ্টিকে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। শিক্ষিত সকল মানুষকে এ দায়িত্ব নিতে হবে। আর যারা নিরক্ষর, তাদের নিজেদেরকেও লেখাপড়া শিখতে আগ্রহী হতে হবে। সকলে সম্মিলিতভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে পারলে জাতীয় উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব হবে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করার জন্য সরকার ও নাগরিকবৃন্দকে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, সেগুলো আলোচনা করা হলো



তথ্য সংগ্ৰহ:


নিরক্ষর মানুষের সঠিক সংখ্যা ও অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকা ও অবস্থানভেদে প্রচলিত পেশার সমস্যা ও সমস্যার কারণ নির্ণয় করতে হবে। সরকার প্রকল্প গ্রহণ ও টাস্কফোর্স গঠন করে এ কাজটি করতে পারে। সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।


বয়স্ক শিক্ষা:


গ্রামে গ্রামে বয়স্ক শিক্ষা ও খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষাদানে সরকারকে বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে (এনজিও) নিয়োজিত করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের শিক্ষিত বেকারদেরও কাজে লাগানো যেতে পারে।


কর্মমুখী শিক্ষা:


আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিবর্তে পেশাভিত্তিক শিক্ষার জন্য বই রচনা করা প্রয়োজন। শুধু আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নিরক্ষর বয়স্কদের খুব একটা কাজে আসবে না। কিছুদিন পর তারা তাদের শিক্ষা ভুলে যেতে পারে। কর্মমুখী শিক্ষাদান করে প্রত্যেক পেশার সঙ্গে নিরক্ষরদের পরিচিত করে তুলতে হবে। তাহলে তারা অর্জিত শিক্ষা ও অক্ষরজ্ঞান সহজে ভুলবে না।


শিক্ষার জন্য ঋণ ও অনুদান প্রথা চালুকরণ:


সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য অনুদান ও বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও নিরক্ষরদের শিক্ষা আনুষ্ঠানিক নয়, তবুও তাদেরকে বৃত্তি ও উপবৃত্তি দিলে তারা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে। এরূপ শুন, অনুদান, বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদান করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে আমাদের। শিক্ষিত ও সম্পদশালীদের এগিয়ে আসতে হবে। জনগণ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য বদান্যতার মনোভাব নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে ।


শিক্ষা ব্যাংক চালুকরণ :


নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য শিক্ষা ব্যাংক চালু করা যেতে পারে। এরূপ ব্যাংক শুধু নিরক্ষরদের ক্ষেত্রে ঋণ দেবে না বরং প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে শিক্ষণ প্রদান করবে। শিক্ষার্থী বঝরে পড়া বন্ধ করতে হলে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠা একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে। সরকার আন্তরিক হলে এরূপ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা চালু করা সম্ভব । 



নাগরিকদের অংশগ্রহণ :


নিরক্ষতা দূরীকরণ এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষেকে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষা উপকরণ থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ব্যাপারে নাগরিকদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে হবে। এ ব্যাপারে দেশের বেশ কয়টি এনজিও যেমন- আহসানিয়া মিশন, ব্রা, স্বনির্ভর বাংলাদেশ, প্রশিকা, কেয়ার, সিডা, ইউসেপ প্রভৃতি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার ও নাগরিকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিরক্ষরতা দূর করা নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষা উপকরণ থেকে শুরু সম্ভব হলে জাতীয় অগ্রগতির শক্ত ভিত রচিত হবে। অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ পেশাডিত্তিক শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে জনশক্তিতে পরিণত হবে।নিরক্ষরতা দূরীকরণে ব্যক্তিগতভাবে আমরা আমাদের বাসায় কেউ নিরক্ষর থেকে থাকলে তাকে অক্ষরজ্ঞান দিতে পারি । অথবা বন্ধুদের সাথে মিলে আমরা নিরক্ষরতা দূরীকরণে ক্লাব গড়ে তুলতে পারি । আমরা দরিদ্র ছেলেমেয়েদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রাথমিক অক্ষরজ্ঞান দিতে পারি। নাগরিক হিসেবে আমাদের এই কাজ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কেননা শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।


Kw,

জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে নাগরিক হিসেবে আমাদের করণীয় What we as citizens should do to solve the population problem, তুলি নিউজ ২৪, tuli news 24, rtuli24


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.