অনেক সুন্দর একটা বাংলা গল্প। A very beautiful Bengali story.
বাসে উঠলেই আবার জানালার সীমা নিয়ে টানাটানি।
পিছনের সিটে বসা যাত্রীদর সাথে সামনের সিটের যাত্রীর মাঝে জানালার গ্লাস নিয়ে টানাটানি।
একবার ধাক্কা দিয়ে টেনে পিছনে ঠেলে দেয়া, আবার পেছনের জন সামনে ঠেলে দেয়া।এই ঠেলাঠেলি চলতে থাকে।
বাসে উঠেই আগে জানালার পাশে বসেই ধাম করে জানালা খুলে দেয়া।সামনে পিছনে কে আছে কিনা, তার চিন্তা না করেই ঠেলে দিয়ে আগে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
এ এক মানসিক দ্বন্দ, যার কোনই ভিত্তি বা মূল্য নেই। কিন্তু ক্ষনিকের এ ক্ষনেই বাস থেকে গন্তব্যে নেমে গেলেই সব ভুলে যাই।অগুরুত্বপূর্ণ এ অংশও জীবনেরই এক গুরুত্বপূর্ণ....
বাসের কাচের এ জানালার গ্লাসের স্লাইডিং আবার খুব ফ্লেক্সিবেল হয়না।খানিকটা শক্তও হয়।কখনো খুব কষ্ট করে ঠেলে দিতে হয়।
আবার গ্লাস সরে দিয়ে এমন ভাবে হাত দিয়ে রাখবে যেন কোন অফিসার সাহেব জীপে বসে আছে।হাতটা এমন ভাবে রাখে যাতে কেউ কোন কৌশলে সরাতে না পারে।
আবার বলে উঠবে,এই যে ভাই এতটা পেছনে ঠেলে দিচ্ছেন কেন?সবই আপনার দিকে খোলা রাখবেন,আমার বাতাস খাওয়া লাগবে না?
কেউ বলবে এই যে ভাই,এটা কি হলো?মাঝামাঝি রাখেন।
এ নিয়ে যাত্রীদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়,রাগারাগি হয়,অযাচিত ঝামেলা হয়,মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। উত্তেজনা ছড়ায় একে অপরের প্রতি। বাসের সুপারভাইজার এসে দু'পক্ষকে ঠান্ডা করে গ্লাসটি মাঝামাঝি রেখে চলে যায়।
চলতে চলতে আবার কখন যে কে আবার সরিয়ে দিয়ে নিজের অংশটুকু বেশি নিয়ে নেয়,তা কেউ টের পায় আবার পায়না।আর টের পেলেও আবার স্নায়ু টানাটানি শুরু হয়ে যায় নীরবে।
বাসের মধ্যে এ যেন এক নিয়মিত ঘটনা।
কোচের ভিতর তখন আবার ফ্যান সিস্টেম ছিলো না।তাই গরমের সময় এই জানালা আর জানালার পাশে বসা সিটের যাত্রীদের নিয়ে একটু বাজাবাজি,ঝামেলা হয় আর কি!
চেয়ার কোচে আবার আর এক ঝামেলা।
৫২ সিটের আসন থেকে আবার ৪০ সিটের আসনের কোচ।নাম তার চেয়ার কোচ।বগুড়ায় হাছনা এন্টারপ্রাইজ প্রথম ঢাকা কোচে নামায় চেয়ার কোচ।সীটের হাতলেই গোল পুশ সিস্টেম ছিলো।গোল বাটনে টিপ দিলেই সীট পেছনের দিকে হেলে যেত।
কি সাংঘাতিক ব্যাপার!
ভাবাই যায়না,এত সুন্দর সিস্টেম।প্রথম এ চেয়ার কোচে উঠে মাথাই নষ্ট।ওরে বাপরে কি হাই ফাই ব্যাবস্থা।উপরে ফ্যান আর সামনে টিভি সেট করা। ভিসিপি চলবে।
চেয়ার তো কোচেই থাকে।চেয়ার কোচ নাম দেবার কারন কি?
৫২ সিটের কোচে যে সিট থাকে তা চেয়ার না,সেটা এটাষ্ট সিট কিন্তু চেয়ার কোচের সিট আলাদা,তাই নামই তার চেয়ার কোচ
আলাদা আলাদা সিট আর সিট কে আরামের জন্য অনেক পিছনে নামানো যায় মানে হেলানো যায়।
আহ কি ফিলিংস,কি আরামের ব্যাবস্থা।
সুযোগ সুবিধা বেশী। তাই ভাড়াও বেশি।একটু আরাম করে বসে যাবার জন্যইতো এর নাম চেয়ার কোচ।
সিটের এই হেলা-হেলিতেই আবার কান্ডও শুরু হয়।একটু সিট পিছনে হেলালেই ওমনি পিছনের যাত্রীর মন খারাপ।ভাই একটু কম হেলান,একটু উপরে তুলুন,ভাই পা লেগে যাচ্ছে।নানান কথা বলা শুরু।
আরে ভাই,একটু সিটটা হেলিয়ে আরাম করে যাওয়ার জন্যইতো এই চেয়ার কোচে টিকিট কাটা।কিন্তু ঐ হেলাতে গেলেই সামনে পিছনে কথার হেলাহেলি শুরু হয়ে যায়।
ভাই,সমস্যা কি?আমিতো সিট হেলাবোই,আপনিও আপনার সীটটা নামিয়ে দিন,হেলিয়ে দিন।আমি উপরে তুলতে পারবো না।
উনি বুঝলেন, এটা ত্যারা যাত্রী,অগত্যা সুপারভাইজারের স্মরনাপন্ন হলেন।সুপারভাইজারের অনুরোধে অনেক সময় একটু উপরে তুলতে হয়।আবার কেউ তার কথাও শুনে না...
কেউ একটু মোটা বা লম্বা হলেই, খবর আছে।
চেয়ার কোচে এটাও যেন নিয়মিত।বাসে উঠলে এ ধরণের অনেক কিছুই দেখি....
৯০ এর প্রজন্মের এরকম অনুভুতি কম বেশি আছে।।।
মনে হয়,আছে..
Kw,
অনেক সুন্দর একটা বাংলা গল্প। A very beautiful Bengali story,A very beautiful Bengali story, গল্প
